নজরুল ইসলাম (হাবু) স্কুল এন্ড কলেজটির মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয় ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের আপামর জনগণকে সাথে নিয়ে হিমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম (হাবু) ৩টি ইউনিয়নের সংযোগস্থলে নাজিরপুর, খোদাইপুর, টিকরী গ্রামের আপামর জনগণকে সাথে নিয়ে নজরুল ইসলাম (হাবু) উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। প্রায় ৩ একর জমির উপর বাঁশ ও টিনের দ্বারা ২টি ঘর নির্মাণ করেন। শিক্ষক হিসাবে (১) মোঃ আব্দুল হামিদ খান (প্রধান শিক্ষক), (২) মোঃ ইসলাম আলী, (৩) মোঃ আব্দুল আউয়াল, (৪) মোঃ ইউসুফ আলী, (৫) মোঃ খবির উদ্দীন, (৬) খন্দকার লাল মিয়া-কে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় ১০০জন ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় নজরুল ইসলাম (হাবু) উচ্চ বিদ্যালয়ের। ২০১০ সালে নজরুল ইসলাম (হাবু) উচ্চ বিদ্যালয়টি নজরুল ইসলাম (হাবু) স্কুল এন্ড কলেজ-এ রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে কলেজটি পাঠদানের অনুমতি ও একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৩৫জন শিক্ষক/শিক্ষিকা, কর্মচারী ও প্রায় ৯০০জন ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে নজরুল ইসলাম (হাবু) স্কুল এন্ড কলেজটি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। জে.এস.সি ও এস.এস.সি তে ১০০% পাশ এবং এইচ.এস.সি তে ৯০% পাশের সফলতা নিয়ে এবং পাবনা ৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এর সহযোগীতায়, বলিষ্ঠ পরিচালনা কমিটির সদস্যগণের নিরলস পরিশ্রম, সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা, কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও এলাকার সকল স্তরের মানুষের সহযোগীতায় নজরুল ইসলাম (হাবু) স্কুল এন্ড কলেজটি ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সামনের দিকে আগাইয়া যাইতেছে। বর্তমানে ভকেশনাল স্কুল (সংযুক্ত) আদেশটি প্রক্রিয়াধীন আছে। পাবনা ৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট এলাকাবাসীর আকুল আবেদন প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখাকে এমপিও ভুক্ত করিয়া, বহুতল বিশিষ্ট ভবন, জে.এস.সি ও এস.এস.সি পরীক্ষা কেন্দ্র সহ সরকারী অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিয়া হিমায়েতপুর ইউনিয়ন, দাপুনিয়া ইউনিয়ন ও মালিগাছা ইউনিয়নের সংযোগস্থলে প্রতিষ্ঠিত নজরুল ইসলাম (হাবু) স্কুল এন্ড কলেজটি পাবনা জেলা তথা বাংলাদেশকে সামনের দিকে আগাইয়া নেওয়ার সুযোগ করিয়া দিবেন। ইহাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট অত্র এলাকাবাসীর জোর দাবী।

প্রতিষ্ঠাতার বর্ণনা:
নজরুল ইসলাম (হাবু) স্কুল এন্ড কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম (হাবু) একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩৫ সালে ১০ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা- মরহুম মজির উদ্দীন আহম্মেদ, মাতা- মোছাঃ জাহানারা খাতুন, ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৩য়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের মতাদর্শে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাহার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নম্বর- ম ৮৬৪৩৩। স্বাধীনতার পরবর্তীতে তিনি হিমায়েতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হলে একদল স্বাধীনতা বিরোধী দূষ্কৃতি পথভ্রষ্ট নরপশুর চক্রান্তে তিনি ১৯৭৪ সালের ১৮ই মার্চ সোমবার দুপুর ১২-৩০মিনিটে হিমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিকট আততায়ীর গুলিতে শহীদ হন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আলহাজ্বা শামছুন্নাহার, ৬ ছেলে, ১ মেয়ে এবং অনেক সুধীজন গুণীজন রেখে গেছেন।